বঙ্গবন্ধুর কবরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৩তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় শোক দিবসে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ ও তিন বাহিনীর প্রধানরা। রাষ্ট্রপতি সকাল ১০টা ১১ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পৌঁছে ফুল দেন। এরপর ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতের মাধ্যমে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর তিনটি চৌকস দল এসময় সামরিক কায়দায় বঙ্গবন্ধুকে অভিবাদন জানায়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। রাষ্ট্রপতি এরপর সমাধি প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে সই করেন। তিনি লেখেন, "বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথিকৃত, স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।" ১০ মিনিটের এ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে রাষ্ট্রপতি ১০টা ২১ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন। প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদ সমাধি সৌধে পৌঁছান বেলা ১১টা ৫ এ। তিনি বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ও ফাতেহা পড়েন। এরপর সৌধচত্বরে রাখা শোক বইয়ে লেখেন, "জাতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। চির জাগরুক এক আদর্শ। তিনি আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান পথিকৃত-স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা।" বেলা ১১টা ২১ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি টুঙ্গিপাড়া ত্যাগের পর ১০টা ২০ মিনিটে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ, নৌ বাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল সরোয়ার জামাল নিজাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল শাহ মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান সমাধিসৌধের চত্বরে প্রবেশ করেন। বঙ্গবন্ধুর কবরের রেলিংয়ের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন তারা। এসব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, যশোর সেনা নিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলাম পিএসসি, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব আব্দুল আওয়াল হাওলাদার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সৈয়দ ফাহিম মুনয়েম, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার আজিজ হাসানসহ ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। রাষ্ট্র্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার আগমন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ চত্বরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সমাধি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দশ হাজরেরও বেশি সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টায় সর্বস্তরের মানুষের জন্য সমাধিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে হাজারো মানুষের ঢল নামে। সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় নেতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। দুপুর সোয়া ১২টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধরণ সম্পাদক মুকুল বোস, বাণিজ্য সম্পাদক ফারুক খান, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কাজী আকরাম উদ্দিন আহম্মেদ সমাধিতে ফুল দেন। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন চলে সন্ধ্যা অবধি। এর আগে জুমার নামাজের পর বঙ্গবন্ধু মাজার কমপ্লেক্স মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। দুপুরে আওয়ামী লীগের পক্ষে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বাড়িতে হয় কাঙালিভোজ। এছাড়া সমাধিসৌধ চত্বরে লায়ন্স ক্লাব ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা করে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন