Powered By Blogger

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

১৬ আগ, ২০০৮

কারাবন্দী খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করলেন দলের নেতাকর্মীরা
(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মিলাদ মাহফিল, বিশেষ কারাগারের সামনে অবস্থান ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুক্রবার দলীয় চেয়ারপার্সনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। কারাবন্দী অবস্থায় এটিই খালেদা জিয়ার প্রথম জন্মদিন । ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ তাকে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এটি খালেদা জিয়ার ৬৪ তম জন্মদিন। ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। খালেদা জিয়ার জন্মের প্রকৃত তারিখ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছু বিতর্ক আছে। সা¤প্রতিককালে ঘটা করে ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন পালন করাকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে অভিহিত করেছে আওয়ামী লীগ। শুক্রবার বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা বিশেষ কারাগারের সামনে সমবেত হয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা হিসেবে ফুল ও কেক নিয়ে আসেন। তারা কারা সুপারের কাছে এসব শুভেচ্ছা সামগ্রী হন্তান্তর করেন। বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, কৃষক দল, ছাত্র দল, জাসাস, উলামা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান বিশেষ কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। তারা সেখানে দেড় ঘন্টা অবস্থান করেন বলে জানান,উপ মহা কারা পরিদর্শক মেজর সামসুল হায়দার ছিদ্দিকী। সকালে খোন্দকার দেলোয়ারের ন্যাম ফ্ল্যাটে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দীর্ঘজীবন কামনা করে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও সহ সভাপতি অধ্যাপিকা সারোয়ারী রহমান, এম কে আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, সাবেক সাংসদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জয়নাল আবেদীন ফারুক, অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব,শাহ নুরুল কবির শাহিন, রিজভী আহমেদ, শিরিন সুলতানা, সাইমুন বেগম, হেলেন জেরিন খান, ফাহিম হোসাইন জুবলিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা অংশ নেন। মিলাদ মাহফিলে মোনাজাতের আগে খোন্দকার দেলোয়ার সাংবাদিকদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও অসুস্থ তারেক রহমানকে বিদেশে পাঠানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে বিশেষ কারাগারে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব ১৫ আগস্টকে সরকারের জাতীয় শোক দিবস পালন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন,'' তার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না। তবে শোক দিবসের সঙ্গে জন্মদিনের কোনো বিরোধ হতে পারে না। যার যার অবস্থান থেকে তা পালন করতে হবে।'' তিনি এ সময় আরও বলেন, 'স্বাধীনতার ঘোষক' জিয়ার অবদানকেও স্বীকৃতি দিতে হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে চারদলের এক বৈঠকের পর খোন্দকার দেলোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, "জাতীয় শোক দিবস পালনের বিষয় জনগণ বিবেচনা করবে। আমরা প্রতিবছরের মতো খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করবো।" বিকালে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে বিশেষ কারাগারের সামনে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আ স ম হান্নান শাহ, যুগ্ম মহাসচিব গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির আহমেদ, সাবেক সাংসদ আবু সালেক, শামসুজ্জোহা, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আবু সাইদ খান খোকন, যুব দলের সহসভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সেলিম, জসিম উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েক 'শ নেতা-কর্মী সমবেত হন। তারা নেত্রীর জন্য ফুলের শুভেচ্ছা, জন্মদিনের কেক ও কিছু উপহার সামগ্রি কারা সুপারের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে মনিপুরী পাড়ায় বিশেষ আদালতে প্রবেশ পথে দলীয় নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়ার আশু মুক্তি কামনায় অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিল অংশ নেন তারা। জন্মদিনের আরও কর্মসূচি এছাড়া পল্টন, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় কর্মীরা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ জীবন কামনা করে মিলাদ মাহফিল করছে। ন্যাম ফ্ল্যাটেই বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় মহিলা দল, শুক্রবার সকালে একই স্থানে তাঁতী দল ও দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র দলের নেতারা জিয়ার জন্মদিনের কেক কাটেন। বিকালে দলীয় মূখপাত্র হিসেবে পরিচিত দৈনিক দিনকালের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু কামনা করে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি সৌদি আরব শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়াদে শুক্রবার ১২টায় খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটে দলীয় নেতা-কর্মীরা। রিয়াদে কোকোপ্লাম রেষ্টুরেন্টে সৌদি প্রবাসী চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলাম, সৌদি শাখার যুগ্ম আহবায়ক সিদ্দিকুর রহমান ইমরান, যুগ্ম সম্পাদক ফখরুল ইসলাম বিলাস, কাজী জাহাঙ্গীরসহ প্রবাসী নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই: