গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ: অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ ও না ভোট বহাল
(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গসংগঠন রাখা নিষিদ্ধ করে এবং 'না' ভোটের বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০০৮ এ বুধবার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সৈয়দ ফাহিম মুনয়েম সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, এর আগে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুনভাবে এই অধ্যাদেশ প্রণয়নের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল না করে কিছু ধারা যোগবিয়োগ করে গণপ্রতিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০০৮ তৈরি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর অধ্যাদেশটি গেজেট আকারে জারি করা হবে। বাংলাতেও গেজেটের একটি অনুলিপি প্রকাশ করা হবে। উপদেষ্টা পরিষদ গত জুলাই ১৩ এ অধ্যাদেশে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল। চূড়ান্ত হওয়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত দলও নিবন্ধিত দলের সঙ্গে জোট বেঁধে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে তাদের যে কোনো একটি প্রতীক ব্যবহার করতে হবে। জোটের প্রার্থীরা যে দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন পরবর্তীতে সংসদে তাদের সেই দলের সদস্য বিবেচনা করা হবে। অধ্যাদেশে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য কিছু শর্তের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলকে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়ী হতে হবে; অথবা এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের পাঁচভাগ পেতে হবে; অথবা কমপক্ষে ১০টি প্রশাসনিক জেলা ও ৫০টি উপজেলা কমিটি থাকতে হবে; অথবা দলের গঠনতন্ত্রে সুস্পষ্ট বিধান থাকতে হবে যে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সকল পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ ভাগ মহিলা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং ২০২০ সালের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে। প্রেস সচিব জানান, বিলখেলাপি, ঋণখেলাপি বা আদালতে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না এবং কোনো প্রার্থী তিনটির বেশি আসনে নির্বাচন করতে পারবেন না। তবে ক্ষুদ্র কৃষিঋণকে ঋণখেলাপির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। কেউ ফৌজদারি অপরাধে 'কমপক্ষে' দুই বছরের জন্য দণ্ডিত হলে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সাজা খেটে মুক্ত হওয়ার পর ৫ বছর অতিক্রান্ত না হলে ওই ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। দুর্নীতির কারণে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারিত বা বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলে পাঁচ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারী চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিলে বা পদত্যাগ করলে বা বাধ্যতামূলক অবসরে গেলে তিন বছর অতিক্রম না করা পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া কেউ নিজে ভোটার না হলে; বিদেশি অনুদানে পরিচালিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে বা ওই পদ থেকে অব্যাহতির পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে; মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পূর্ববর্তী ছয় মাসের মধ্যে কোনো সেবা প্রদানকারী সংস্থার বিলখেলাপি অথবা গৃহনির্মাণ বা কৃষি ঋণের কিস্তি খেলাপি হলে; জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না। 'না' ভোট প্রসঙ্গে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, প্রার্থী পছন্দ না হলে একজন ভোটার 'না' ভোট দিতে পারবেন। এজন্য ব্যালট পেপারে একটি আলাদা প্রতীক রাখা হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের আর্থিক, বাণিজ্যিক, ছাত্র, শ্রমিক বা পেশাভিত্তিক অঙ্গসংগঠন থাকতে পারবে না। তবে কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে এসব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা থাকবে না। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, একজন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় কোনোভাবেই ১৫ লাখ টাকার বেশি হবে না। এর আগে সংসদ নির্বাচনে ব্যক্তি পর্যায়ের ব্যায়সীমা ছিল পাঁচ লাখ টাকা। কোনো দল নির্বাচনী অনুদান হিসেবে চেক ছাড়া ২০ হাজার টাকার বেশি অনুদান নিতে পারবে না। কোনো দেশি বা বিদেশি এনজিও বা বিদেশি নাগরিক বা বিদেশি নাগরিক দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোন উপহার, অনুদান, বা অর্থ নিতে পারবে না। কোন রাজনৈতিক দলে প্রার্থীর সংখ্যা ২০০ বা তার বেশি হলে চার কোটি ৫০ লাখ টাকা, ১০০ আসনের বেশি ও ২০০ আসনের কম প্রার্থীর ক্ষেত্রে তিন কোটি টাকা, ৫০ এর বেশি ও ১০০ এর কম হলে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং প্রার্থী সংখ্যা ৫০ এর নিচে থাকলে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন