Powered By Blogger

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

১০ আগ, ২০০৮

শ্রমিকদের ২০ শতাংশ 'বিশেষ ভাতা' দেবে বিকেএমইএ
ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিট পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ 'বিশেষ ভাতা' দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও রোডে বিকেএমইএ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ফজলুল হক এ ঘোষণা দেন। ফজলুল হক বলেন, "দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিট পোশাক শিল্পের প্রায় আট লাখ শ্রমিক দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। আমরাও আমাদের শ্রমিকদের কষ্টের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটাকে আমরা 'বিশেষ ভাতা' ভাতা হিসেবে বিবেচনা করবো।" সভাপতি জানান, চলতি সপ্তাহেই বিকেএমইএ'র এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করা হবে। তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে বিকেএমইএ'র সদস্য দেড় হাজারের বেশি মালিক সঙ্গে সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করবেন। একইসঙ্গে আসন্ন রমজান মাসে নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুরে দোকান খুলে শ্রমিকদের কাছে কম দামে চাল, ডাল, ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য বিক্রি করবে বিকেএমইএ। শনিবার সকালে বিকেএমইএ'র বোর্ড সভায় শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও কম দামে পণ্য বিক্রির দোকান চালুর সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান ফজলুল হক। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, "আমরা ইচ্ছে করলেই শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এ ক্ষেত্রে সরকারের দিক থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে হবে। আমরা বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত সরকারের কাছে জমা দেবো। সরকার শ্রম আইনের আওতায় ঘোষিত ন্যুনতম মজুরির সঙ্গে সমন্বয় করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে কথা হয়েছে জানিয়ে ফজলুল হক বলেন, "উনি (উপদেষ্টা) এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।" বিকেএমইএ সভাপতি জানান, দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকায় গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তাদের সংগঠনের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জে কম দামে পণ্য বিক্রির দোকান চালু করা হয়েছিল। চালের দাম না কমায় রমজান মাসকে সামনে রেখে এবার তারা বড় পরিসরে হ্রাসকৃত মুুল্যের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফজলুল হক জানান, নারায়ণগঞ্জে ৩টি, সাভারে ১টি ও গাজীপুরে ১টি দোকান খোলা হবে। এ সব দোকানে বিডিআরের দোকানের চেয়েও কম দামে পণ্য বিক্রি করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রামেও একটি দোকান খোলার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিকেএমইএ সভাপতি জানান, গত অর্থ বছরে নিট পোশাক খাত থেকে ৫ হাজার ৫৩২ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় দেশে এসেছে যা ছিল ওভেনের চেয়ে ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার বেশি। এই প্রথম বারের মতো ওভেনের চেয়ে নিট খাতে বেশি আয় হয়েছে। ফজলুল হক এ সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব শ্রমিকদের দিয়ে বলেন, "সে কারণেই শ্রমিকদের সুখ-দুঃখে আমরা সব সময় পাশে দাঁড়াতে চাই।" এদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে অন্য শিল্প খাতের মতো নিট পোশাক খাতেও উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, "এ দুটি সমস্যার সমাধান না হলে এ খাতে আর নতুন শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে না।" তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। সরকার ঘোষিত নূন্যতম মজুরি কাঠামো অনুযায়ী, নিট পোশাক শিল্পে একজন অপারেটর মোট এক হাজার ৬৬২ টাকা বেতন পান। এর মধ্যে মূল বেতন এক হাজার ১২৫ টাকা। এর ২০ শতাংশ বেশি বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিকেএমইএ।

কোন মন্তব্য নেই: