Powered By Blogger

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

১১ আগ, ২০০৮

পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা দিতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ: বিজিএমইএ
(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা দিতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পোশাক শিল্প ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। গাজীপুরের মিম ডিজাইন সোয়েটার কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজিএমএই কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করে সংগঠনটি। বিক্ষোভরত শ্রমিকরা রোববার রাতে গাজীপুর সদর উপজেলার ভোগড়া এলাকার ওই কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, মজুরি ও জুলাই মাসের বেতনের দাবিতে রোববার দুপুর থেকে ওই কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। সন্ধ্যার পর মালিকপক্ষ জুলাই মাসের বেতন দেওয়া শুরু করলেও হঠাৎ দুই শ্রমিকের মৃত্যুর গুজবে ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। ব্রিফিংয়ে বিজিএমএই সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ দাবি করেন, "কারখানাটিতে প্রতি মাসের ১০ তারিখে শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন দেওয়া হয়। সেখানে একদিনেরও বেতন বাকি নেই। পুলিশের চোখের সামনে শ্রমিক নামধারী কিছু সন্ত্রাসী আগুন দিয়ে কারখানাটি একেবারে পুড়িয়ে দিয়েছে।" বিজিএমইএ ও মালিকের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন মহলে বার বার যোগাযোগের পরও হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। মিম ডিজাইন সোয়েটার কারখানার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান ও বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলামও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মিজানুর রহমান জানান, রোববার বিকেল থেকে কারখানায় হামলা-ভাঙচুর শুরু হয়। সন্ধ্যার পরে আগুন দিয়ে সেটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আগুনে কারখানার প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিজিএমইএ সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকার পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। একের পর এক কারখানায় হামলা-ভাংচুর ও আগুন দেয়া হচ্ছে। আমরা বার বার অনুরোধ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। আগে খারাপ কারখানাগুলোতে (বেতন অনিয়মিত) হামলার ঘটনা ঘটত। কিন্তু এখন পরিকল্পিতভাবে বেছে বেছে ভালো কারখানায় হামলা করা হচ্ছে।" পোশাক কারখানার নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এ শিল্পে বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমএই সভাপতি বলেন, "শ্রমিকদের বেতন ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোন প্রক্রিয়ায় বাড়ানো যায় তা নিয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। প্রসঙ্গত, গত শনিবার নিট পোশাক মালিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) নিট খাতের শ্রমিকদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ 'বিশেষ ভাতা' দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই: