রোটন ও হেলালকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার: ফায়েজ
(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)Ñ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ও ছাত্রদল সভাপতি আজিজুল বারী হেলালকে মুক্তি দিতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের উপচার্য এস এম এ ফায়েজ বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করে এসে এ তথ্য জানিয়েছেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "সরকার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদল সভাপতির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করছি বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে তারা মুক্তি পাবেন।" এরআগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আ কা ফিরোজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে উপাচার্য প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। উপাচার্যের বক্তব্যের পরেও ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতারা বলেছেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বহাল রয়েছে। ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবুল কালাম জানিয়েছেন, "রোটন মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কাল সকালে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি রয়েছে।" ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক আকরামুল হাসানও জানান, তাদের সকাল ১১টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি বহাল রয়েছে। রোটনের বাবা আফসার উদ্দিন হায়দার চৌধুরী উপাচার্যের মুখ থেকে তার ছেলের বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে মুক্তির আশাবাদ শোনার পরও বলেছেন, "আমার ছেলে জেল থেকে বের হয়ে না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে (উপাচার্যের কার্যালয়) যাব না। রাতে অফিসের বারান্দায় শুয়ে থাকব।" রোটনের মুক্তির দাবিতে ছাত্রলীগের আন্দোলনের পর্যায়ে বুধবার ছাত্রদলও আজিজুল বারী হেলালের মুক্তির দাবিতে জোরালোভাবে মাঠে নামে। ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা রাত সাড়ে ৮টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। এসময় তারা রেজিস্ট্রার ভবনের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা সেখান থেকে চলে যায়। এর আগে দুপুরে ছাত্রদল নেতারা উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত হেলালের মুক্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানায়। জরুরি বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগে আটক ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মুক্তির ব্যাপারে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় নিলেও রাত ৮টা ৪০ মিনিটে উপাচার্য এসএম এ ফায়েজ রেজিস্ট্রার ভবনে এসে আন্দোলনরত ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট কথা বলেন। এরপর তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বের হয়ে যান। ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ন সম্পাদক আকরামুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গত ৪ আগস্ট হেলালের মুক্তির আদেশ হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ আগস্ট কাগজ এসেছে। কিন্তু ৬ আগস্ট বুধবার পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এই দুইদিন কারাগারের সামনে অবস্থান করে নেতাকর্মীরা ফিরে এসেছে। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারাগারের সামনে অপেক্ষার পর নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে এসে বিক্ষোভ করে। বৈধ আদেশ থাকার পরেও হেলালকে মুক্তি না দেওয়ায় তারা আইনি লাড়াই চালিয়ে যাবেন। কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। আকরামুল হাসান জানান, তারা হেলালের মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে। অপর দিকে উপাচার্য চলে যাওয়ার পরেও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করছিল। উপাচার্য আগের রাতে শিক্ষা উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমানেরর সঙ্গে দেখা করে এসে রোটনের মুক্তির ব্যাপারে অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছিল। ছাত্রলীগের সমর্থনে 'মানবাধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে বুধবার ছাত্রধর্মঘট আহ্বান করা হলেও মুক্তির ব্যাপারে উপাচার্যের আশ্বাসের পর মঙ্গলবার রাতেই তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ছেলের মুক্তির আবেদন জানিয়ে রোটনের বাবা আফসার উদ্দিন হায়দার চৌধুরীও বুধবার সকালে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রোটনের মুক্তির দাবিতে ছাত্রলীগ মঙ্গলবার উপাচার্যকে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর করে। রোটনের বাবা আফসারউদ্দীন হায়দার চৌধুরী প্রশাসনিক ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, "বিনা অপরাধে আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। আমার ছেলের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে।" ২০০৭ সালের ১৬ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা ভঙ্গের অভিযোগে আটক রোটন ময়মনসিংহ জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। মঙ্গলবার মুক্তি দেওয়ার পর আবারও তাকে গ্রেপ্তার করার খবর পাওয়ার পর বিকেলে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। সেখানে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে কর্মীরা। এর আগে রোটনকে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দিয়ে আবারও ফটকেই গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ কারাগারে পাঠানো হয়।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন