মঙ্গলে টক্সিনের অস্তিত্বেও প্রাণের সম্ভাবনা ফুরায়নি: নাসা
এর আগে মঙ্গলের সুমেরু অঞ্চলে 'পারক্লোরেট' এর সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় নাসা। নাসার ওই প্রাথমিক খবরটি গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটে বহুলভাবে আলোচিত হয়। এতে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে, বিষাক্ত এ রাসায়নিকের অস্তিত্বের কারণে মঙ্গলে প্রাণের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে। তবে মঙ্গলবার নাসা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, মঙ্গলের মাটিতে 'পারক্লোরেট' পাওয়া গেছে কি না সেজন্য আরও পরীক্ষা করতে হবে। একইসঙ্গে বিষাক্ত ওই রাসায়নিকটি ফিনিক্সের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে মঙ্গলে গিয়ে থাকতে পারে বলে যে ধারণা করা হচ্ছে তাও নাকচ করে দিয়েছে নাসা। এ বিষয়ে ফিনিক্সের প্রধান অনুসন্ধানকারি পিটার স্মিথ বলেন, "এখন যন্ত্রপাতির ভেতরে পরীক্ষা করে দেখতে হবে।"একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন যদিও পারক্লোরেটের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় তবুও তা "মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের বিষয়টি অসম্ভব করে তোলে না। বাস্তবে এটা একটা সম্ভাব্য শক্তির উৎস।" তিনি আরও বলেন, "আমি গণমাধ্যমকেও আমাদের সঙ্গে অপেক্ষা করার আহ্বান জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, "বিজ্ঞানীদের যথোপযুক্তভাবে এগিয়ে যেতে দিন।" মঙ্গলে পানি এবং এবং জীবের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় পদার্থের উপস্থিতি আছে কিনা বা ক্ষুদ্র কোনো জীবের অস্তিত্ব আছে কিনা তা খুঁজে বের করতেই নাসার এই মঙ্গল অভিযান। গত সপ্তাহে নাসা জানায়, তাদের কাছে মঙ্গলে পানির অস্তিত্বের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং গত জুনে ফিনিক্স সেখানে বরফ খুঁজে পেয়েছে। এছাড়াও নাসার বিজ্ঞানীরা জানান, মঙ্গলে যে ধরনের পারক্লোরেট পাওয়া গেছে, ওই একই ধরনের পারক্লোরেট চিলির আতাকামা মরুভূমিতেও পাওয়া যায়। আতাকামা মরুভূমি পৃথিবীর শুষ্কতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। পারক্লোরেট পৃথিবীর প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর হলেও এমন কিছু প্রজাতির উদ্ভিদ আছে যা পারক্লোরেট সমৃদ্ধ মাটিতেও বেঁচে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। চিলির ওই আতাকামা মরভুমিতেই মঙ্গল অভিযানে প্রেরিত নভোযান ফিনিক্সের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। নাসা গত সপ্তাহে মঙ্গল অভিযানের সময় সীমা আরও পাঁচ সপ্তাহ বাড়িয়েছে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন