কুয়েত-ফেরতদের বকেয়ার জন্য কর্মসংস্থান ব্যুরোয় যোগাযোগের অনুরোধ
(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) - সম্প্রতি কুয়েত থেতে ফেরত আসা কর্মীদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও বীমার টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে কুয়েত সরকার। ফেরত আসা কর্মীদের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বুধবার এক তথ্য বিবরণীতে এ অনুরোধ জানানো হয়। এদিকে কুয়েতে বাংলাদেশী শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়ে কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাবের আল খালিদ আল জাবের আল সাবাহকে চিঠি দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইফতেখার আহমদ চৌধুরী । প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়, বকেয়া বেতন-ভাতা ও বীমার টাকা পেতে কুয়েত ফেরত কর্মীদের নাম, পাসপোর্ট/ট্রাভেল পারমিটের কপি, কুয়েতের সিভিল আইডি'র কপি, নিয়োগদাতা কোম্পানির নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা, কুয়েতে যাওয়ার তারিখ, ফেরত আসার তারিখ, কোন তারিখ থেকে বেতন বকেয়া আছে এবং এর পরিমাণ ইত্যাদি তথ্যসহ আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র যত দ্রুত সম্ভব জমা দিতে হবে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কাকরাইল অথবা নিকটস্থ জেলা জনশক্তি কর্মসংস্থান কার্যালয়ে। এদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সকালে সাংবাদিকদের জানান, কুয়েতের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এছাড়া শ্রমিক অসন্তোষ সংক্রান্ত সার্বিক ঘটনার তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাবের আল খালিদ আল জাবের আল সাবাহকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। ইফতেখার বলেন, "কুয়েত সরকার বিদেশি কর্মীদের মাসিক মজুরি ন্যুনতম ৪০ দিনার নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা আশা করি, কুয়েতের নিয়োগদাতারা এ সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন।" তিনি বলেন, "বিদেশি আগ্রাসনের মুখে কুয়েত যখন বিপর্যস্ত ছিল বাংলাদেশের সৈনিকরা তখন জীবন বাজি রেখে কুয়েতের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল। আমি নিশ্চিত, কুয়েতের জনগণ এ কথা ভুলে যায়নি।" চিঠিতে ইফতেখার চৌধুরী বলেন, "গুটিকয়েকের দোষের কারণে নির্দয়ভাবে বহু শ্রমিককে খালি হাতে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আইন মেনে চলার ব্যাপারে আমরা যখন আমাদের নীতিগত অবস্থানে অনড় রয়েছি তখন আমাদের শান্তি প্রিয় কর্মীরা দুর্ভোগের শিকার হবে নাÑএটাই কাম্য।" বেতন বাড়ানো ও ভালো কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে গত ২৬ থেকে ২৯ জুলাই কুয়েতের এশীয় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশী। এদের মধ্যে কেউ কেউ সারা মাস কাজ করে মাত্র ৮ দিনার (৩০ ডলার বা ২ হাজার টাকার কিছু বেশি) পান বলে অভিযোগ আছে। শ্রমিক বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে ওই সময় যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নেয় কুয়েত পুলিশ। এতে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশী আহত হয় এবং ৮০০ বাংলাদেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৪০০ বাংলাদেশীকে মুক্তি দিলেও কর্তৃপক্ষ জানায় দোষীদের অবশ্যই দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এর ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত ৫২৭ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন