Powered By Blogger

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

১২ আগ, ২০০৮

বিভ্রান্তির জন্য সাংবাদিকদের দুষলেন হোসেন জিল্লুর
(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-খালেদা জিয়ার সম্ভাব্য মুক্তি নিয়ে সরকারের উপদেষ্টাদের বক্তব্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তির জন্য সাংবাদিকদের দায়ী করেছেন সরকারের রাজনৈতিক মুখপাত্র বলে পরিচিত উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে উপদেষ্টাদের নানা বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে হোসেন জিল্লুর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, "এক্ষেত্রে ধুম্রজাল সৃষ্টির কোনও সুযোগ নেই। যা হচ্ছে তা আপনাদের (সাংবাদিক) কারণেই হচ্ছে।" কোনও কোনও উপদেষ্টা বেশ কিছুদিন ধরেই বলে আসছেন- খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। কিন্তু সাময়িক মুক্তি হলে যে মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি হওয়ার কথা; সেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা বলছেন, তিনি কিছুই জানেন না। হোসেন জিল্লুর রহমান মঙ্গলবার বলেছেন, সমঝোতা হলেই মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া। উপদেষ্টা গোলাম কাদের দুই দিন আগে বলেন, কোনও শর্ত ছাড়াই মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। উপদেষ্টাদের এসব বক্তব্যে বিএনপি নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে উপদেষ্টাদের একেক জন একেক ধরনের বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা বিভ্রান্তিকর।" গত কিছুদিন ধরেই শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলে আসছেন- খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। দ্রুততম সময়ে ফলাফল আসবে বলেও জানিয়ে আসছেন তিনি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরেও একই কথা শুনিয়েছেন তিনি। বলেছেন- "খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।" এক্ষেত্রে জটিলতা কোথায়- জানতে চাওয়া হলে হোসেন জিল্লুর বলেন, "এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় রয়েছে। একটি হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা, অপরটি হচ্ছে প্রশাসনিক আদেশ জারি করা। আমরা খুঁটিনাটি বিষয়গুলো 'বাস্তবভিত্তিক' পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে যতটুকু 'যৌক্তিক সময়' প্রয়োজন ততটুকুই নেওয়া হচ্ছে।" সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে যোগাযোগ উপদেষ্টা গোলাম কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন হোসেন জিল্লুর। গোলাম কাদের রোববার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, "খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।" খালেদার মুক্তি ও ভোটার না হওয়ার বিষয়ে হোসেন জিল্লুর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, "সমঝোতা হলেই সব বিষয় নিষ্পত্তি হবে।" একইদিন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, "খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনও খবর আমার কাছে নেই।" একই কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এমএ মতিনও। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোনও অগ্রগতি আছে কি না- সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না"। কারাবন্দিদের সাময়িক বা পূর্ণ মুক্তি সংক্রান্ত— সরকারি আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেই জারি করা হয়। শেখ হাসিনাসহ অন্য রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রেও এই মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ জুন সরকারের এক নির্বাহী আদেশে আট সপ্তাহের জন্য সাময়িক মুক্তি পেয়ে বর্তমানে বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ৫ আগস্ট তার সাময়িক মুক্তির মেয়াদ আরো একমাস বাড়ায় সরকার। খালেদার মুক্তি নিয়ে উপদেষ্টাদের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, "কথার জাদুকর কয়েক উপদেষ্টার বক্তব্য আমরা আর বিশ্বাস করি না।" খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়ায় দেরিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, "রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে খালেদা জিয়াকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন।" খালেদা জিয়াকে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। সংসদ ভবন এলকার একটি বাড়িকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা করে তাকে সেখানে রাখা হয়েছে। সংসদ ভবন এলাকার আরেকটি বিশেষ কারাগারে ছিলেন শেখ হাসিনা। গত জুন মাসে সরকারের এক নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমানও সাময়িক মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য বর্তমানে থাইল্যান্ড রয়েছেন। খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমানও কারাগারে।

কোন মন্তব্য নেই: