Powered By Blogger

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

১২ আগ, ২০০৮

ডিআইজি আনিসের আলোচিত সাত শিশু এক ঔরসজাত নয়
পুলিশের সাবেক ডিআইজি আনিসুর রহমানের আলোচিত সাত শিশু পরষ্পরের ভাই-বোন নয় বলে মঙ্গলবার হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি ফরিদ আহম্মদের বেঞ্চ প্রতিবেদনটি পাঠ করে বুধবার আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য করেন। আনিসুর রহমানের সাত শিশুর ডিএনএ সিবলিং টেস্ট করার জন্য গত ৬ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওইদিনই দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. মিজানুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড সাত শিশুর ডিএনএ সিবলিং টেস্ট করে। তাদের নাম- জান্নাতুল মরিয়ম, আইমন রহমান আনিস, আনাস রহমান আকন্দ, নাফিস রহমান নাইস, দাইয়ান রহমান, জান্নাতুল নাফিজা রহমান ও জান্নাতুল আনিসা রহমান। ওই টেস্টের প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে মঙ্গলবার হাইকোর্টে জমা দেয় মেডিক্যাল বোর্ড। বোর্ডের এক সদস্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ডিএনএ ল্যাবের প্রধান ড. শরীফ আখতারুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সাত শিশুর ডিএনএ সিবলিং পরীক্ষায় দেখা গেছে তারা পরস্পর ভাই-বোন নয়। এদের মধ্যে চার ছেলে শিশুর আরেকটি পরীক্ষা করা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে ওই শিশুদের 'ওয়াই' ক্রোমোজমে ভিন্নতা রয়েছে। এতে বোঝা য়ায় তাদের বাবা এক নয়।" বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে ডিআইজি দম্পতির ডিএনএ- এর নমুনা পরীক্ষা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। আদালত মেডিকেল প্রতিবেদর পাঠ করে বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিআইজি আনিসুর রহমানের সাত শিশু সহোদর নয়। তাদের ডিএনএর গঠন আলাদা। প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিআইজির সাত শিশুর পিতৃত্ব দাবি করা ভুল। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এলিনা খান এ তথ্য জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "আদালত রিপোর্টটি পাঠ করেছে। বুধবার এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে।" ২০০৬ সালের মে মাসে সংবাদ মাধ্যমে সাবেক ডিআইজির স্ত্রী আনোয়ারা রহমানের প্রায় একই রকম বয়সের সাত বাচ্চার খবর প্রচারিত হলে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সন্দেহ তৈরি হলে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ২০০৬ সালের ২ জুন বাড্ডা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চায়। মানবাধিকার সংস্থা পরে ডিআইজি আনিসুর রহমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ২০০৬ সালের ৭ জুন বাড্ডা থানায় আরেকটি জিডি করে। ওই দিনই বাড্ডা পুলিশ ঢাকার সিএমএম আদালতে শিশুদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ডিএনএ টেস্ট করানোর অনুমতি চায়। পরদিন মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থাও ওই আদালতে একই পরীক্ষার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে প্রধান করে মেডিকেল বোর্ড করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত দিন মা আনোয়ারা রহমান উপস্থিত না থাকায় ডিএনএ টেস্ট করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি আইনি তৎপরতা চলতে থাকে। জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি শিশু সাতটিকে নিজেদের কাছে রাখার জন্য একটি রিট করে। অন্যদিকে ডিআইজি আনিস সংশয়ের অবসান করতে সিঙ্গাপুরে শিশুদের ডিএনএ টেস্ট করানোর জন্য আবেদন করেন। এ রিট ও পাল্টা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সিঙ্গাপুরে ডিএনএ টেস্ট করানোর অনুমতি দেয়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠন দুটি আপিল করলে ২০০৬ সালের ২৯ জুন আপিল বিভাগ বিষয়টি আবার হাইকোর্ট পাঠায়। এছাড়া, এ মামলায় আদালতকে সাহায্য করার জন্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলামকে এমিকাস কিউরি নিয়োগ করা হয়। মাহমুদুল ইসলামও শিশুদের ডিএনএ টেস্ট করানোর পক্ষে মত দেন।

কোন মন্তব্য নেই: