কাজী আরেফ হত্যা মামলায় ৯ জনের ফাঁসির রায় বহাল
(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফ আহমেদ হত্যা মামলায় নয় জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে খালাস পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এক আসামি। এছাড়া এ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সবাইকেই খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল এবং সরকারের ডেথ রেফারেন্সের ওপর চার দিন শুনানি শেষে বিচারপতি একেএম ফজলুর রহমান ও এটিএম ফজলে কবীবের বেঞ্চ মঙ্গলবার রায় দেয়। ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্র"য়ারি কুষ্টিয়ায় এক জনসভায় গুলি চালিয়ে কাজী আরেফসহ পাঁচ জাসদ নেতাকে হত্যা করে চরমপন্থীরা। ২০০৪ সালে নিম্ন আদালতের রায়ে ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্ট যাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছে তারা হচ্ছে- ইলিয়াস আলী এলাচ, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু, সাফায়েত হেসেন হাবিব, আনোয়ার, মান্নান মোল্ল¬া, বাকের, রওশন, জাহান ও জালাল। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সহীরকে বেকসুর খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যে আসামিরা খালাস পেয়েছেন তারা হচ্ছে- লাল্টু, লাভলু, রাফাত, টিক্কা, আকুব্বর, নজরুল, অলিয়ার রহমান, মুহীত, আসগর, তসীর, গারেস সর্দার ও ফরজ আলী। ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্র"য়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের আড়িয়া ইউনিয়নের কালিদাসপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাসদের জনসভায় হামলা চালায় চরমপন্থীরা। তাদের গুলিতে কাজী আরেফ, জাসদের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, দলের স্থানীয় নেতা ইসরাইল হোসেন ও শমসের মণ্ডল ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওই রাতেই দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন কবির বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ৪১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফজলুর রহমান মামলার রায়ে ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেন। নিু আদালতের রায়ে আসামি মাহতাবকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। অপর চার আসামির মধ্যে দুই জন রায়ের আগেই মারা যান। দুই জনের মামলা হাইকোর্ট বাতিল করে দেয়। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করে। সরকার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে ডেথ রেফারেন্স দায়ের করে। এর ওপর গত ২৭ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত হাইকোর্টে শুনানি হয়। ৩১ জুলাই রায় দেওয়া শুরু করে হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী, হুমায়ন কবির বুলবুল, অ্যাডভোকেট সেলিম এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট বিনয় কুমার বোস।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন