নির্বাচন পর্যবেক্ষণ- ভেতর থেকেই অভিযোগ
(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী ৩৩টি সংগঠনের ফোরাম 'ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্র"প (ইডাব্লিওজি)'র দুটি সংগঠন ওই ফোরামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ) ও অধিকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছে, নিবন্ধন ও ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ইডাব্লিওজি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) 'ঠিকাদার' হিসেবে কাজ করছে। টাকার জন্যই তারা এ কাজ করেছে। স¤প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন ও পৌর নির্বাচনকে ইডাব্লিওজি 'সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য' বলে আখ্যায়িত করলেও জানিপপ ও অধিকার দাবি করছে, ইসির সঙ্গে এ ধরনের সম্পর্ক রেখে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সম্ভব নয়। ইডাব্লিউজি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতামূলক কাজের জন্য ৪২ লাখ ডলার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা এশিয়া ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে। এর অর্ধেক ব্যয় ধরা হয় জনসচেতনতামূলক কাজের জন্য এবং বাকি অর্ধেক ব্যয় ধরা হয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে। জানিপপ ও অধিকার জানিয়েছে, তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করলেও ভোটার নিবন্ধন এবং ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ায় ইডাব্লিওজির কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছে। অধিকার'র ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ভোটার নিবন্ধনে ইসির ঠিকাদার হিসেবে কাজ করার যে সিদ্ধান্ত ইডাব্লিউজি নেয়, আমরা তার প্রতিবাদ জানিয়েছি। কারণ আমরা মনে করি, এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকা স্বাধীনভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।" তিনি বলেন, "ইসির কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে পক্ষপাতহীনভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়।" জানিপপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, জানিপপ প্রথমদিকে জনগণকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং ইসির জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিলেও পরবর্তী সময়ে তা থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, "একসঙ্গে এজেন্ট এবং মূল্যায়নকারী হওয়া সম্ভব নয়; এটা ঠিকও নয়। তাই পরে আমরা কেবল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি।" নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ভোটারদেরকে নিবন্ধন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইডাব্লিউজির সঙ্গে ইসির একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় এবং সে অনুযায়ী তারা কাজ করে। এ জন্য তারা এশিয়া ফাউন্ডেশন থেকে টাকা নিয়েছে।" ইডাব্লিওজিকে দেওয়া অর্থের পরিমাণ ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার (৪২ লাখ ডলার) বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন ঢাকায় এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি জেরোম সায়ার। তিনি জানান, ওই অঙ্কের অর্ধেক দেওয়া হয়েছে নিবন্ধন ও ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে। বাতিক অর্ধেক দেওয়া হয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যয় করতে। অধ্যাপক কলিমুল্লাহ বলেন, "নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একবার যদি কেউ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, তাহলে সে তার একটি অংশ হয়ে যায়।" এভাবে ইডাব্লিওজি একদিকে ইসির অধীনস্ত এবং অন্যদিকে মূল্যায়নকারী হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে অধিকার ও জানিপপ। তবে অধিকার ও জানিপপের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে ইডাব্লিউজি'র অন্যতম সদস্য ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স (ফেমা)। সংগঠনের সভাপতি মুনিরা খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "নির্বাচন কমিশনের নয়, আমরা দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছি।" সা¤প্রতিক সিটি কর্পোরেশন ও পৌর নির্বাচনে ৩৩ সদস্যের ইডাব্লিউজি নিরপেক্ষভাবেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। ২০০৭ সালে বাতিল হওয়া ২২ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০৬ সালের মাঝামাঝিতে ইডাব্লিউজি গঠিত হয়। ওই নির্বাচন না হওয়ায় এর সদস্য এনজিওগুলো পরে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এরই এক পর্যায়ে জনগণকে ভোটার হতে উদ্বুদ্ধ করা, নিবন্ধন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াসহ জনসচেতনতামূলক কাজের জন্য গতবছর ইসির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে তারা। যে সব এনজিও নিয়ে ইডাব্লিউজি গঠিত হয়েছে, তাদের অধিকাংশেরই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অতীত অভিজ্ঞতা নেই। এসব এনজিওগুলো মূলত ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম, মানবাধিকার, পরিবেশ এবং অন্যান্য বিষয়ে কাজ করে। এর অন্য সদস্যরা হচ্ছে- এসিডি, এডিডি, বাঁচতে শেখা, বিসিডিজেসি, বিডিএস, বাংলদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ, কোস্ট ট্রাস্ট, ডাক দিয়ে যাই, ডেমোক্রেসিওয়াচ, এফআইভিডিবি, গণকল্যাণ সংস্থা, গ্রীণহিল, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র, আইইডি, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, খান ফাউন্ডেশন, লাইট হাউস, এমএমসি, এমএসএস, নবলোক, এনডিপি, এনআরডিএস, পলাশীপাড়া সমাজকল্যাণ সমিতি, রাইটস যশোর, রূপান্তর, এসডিএস, সলিডারিটি, সৃজনী, উত্তরণ এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকলেও অধিকার শুরু থেকেই ইডাব্লিওজির জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে। জানিপপ শুরুর দিকে ভোটার নিবন্ধনে উদ্বুদ্ধ করার কাজে যুক্ত থাকলেও পরে অবস্থান পরিবর্তন করে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন