সেনারা কেন্দ্রে থাকবে না, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে: সাখাওয়াত
Mon, Aug 11th, 2008 3:02 pm BdST
ঢাকা, আগস্ট ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) - আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন সোমবার বলেছেন, কোন ভোট কেন্দ্রে নয়, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রশ্নে আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে সাখাওয়াত পরিষ্কার করেই বলেছেন, সেনা বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কোন ধরনের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হবে না বরং অতীতের মতোই বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তারি ক্ষমতা দেওয়া হবে। তিনি সাংবাদিকদের আরও জানান, চার সিটি কর্পোরেশন এবং নয় পৌরসভায় নির্বাচনের ফলাফল চলতি সপ্তাহেই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এর পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথের দিনক্ষণ ঠিক করবে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার আগেই দলীয় পদ ছাড়তে হবে।" রাজনৈতিক দল বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নির্বাচিতদের দলীয় পদ ছাড়ার বিষয়টির বিরোধিতা করে আসছে। চার সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ নেতারা এর বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন বলে দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, "আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে সিটি ও পৌর নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার আগে দলীয় পদ ছাড়তে হবে।" তিনি বলেন, "উনারা (প্রার্থীরা) এটা মেনে নিয়েই মনোনয়নপত্র স্বাক্ষর করেছেন। তাই উনাদের দলীয় পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত। এখন যদি মত পাল্টান, তবে তা বিচারের ভার ভোটারদের ওপর।" গত ৪ আগস্টের নির্বাচনে চার মহানগরী এবং নয় পৌরসভায় ১৩ জন মেয়র ছাড়াও বিভিন্ন ওয়ার্ডে সংরক্ষিত ও সাধারণ আসনে ২৬৫ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নির্বাচিত সিটি মেয়রদের মধ্যে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, বরিশালের শওকত হোসেন হিরণ নগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, খুলনার তালুকদার আবদুল খালেক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং রাজশাহীর এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া বিভিন্ন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন সিটি ও পৌরসভার অধিকাংশ মেয়র-কাউন্সিলর। নির্বাচিতদের দলীয় পদ ছাড়ার বিধানের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম রোববার সাংবাদিকদের বলেন, "এ নিয়ে আমাদের নির্বাচিত নেতারা হাইকোর্টে যাবেন। আদালতেই এর ফয়সালা হবে।" আওয়ামী লীগের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে- সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "এ নিয়ে কেউ যদি আদালতে যায়, তবে সরকারই তা দেখবে।" সিলেটের মেয়র কামরান, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র রমজান আলীসহ কয়েকজন সিটি ও পৌর কাউন্সিলর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। শপথ অনুষ্ঠানের আগে কারাবন্দিদের মুক্তির বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বদরউদ্দিন কামরানের স্ত্রী আসমা কামরান রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সোমবার আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব আমরা।" নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানান, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে বিজয়ী মেয়র-কাউন্সিলদের শপথ অনুষ্ঠানের বিধান থাকলেও গেজেট প্রকাশের পরপরই শপথ গ্রহণ করানোর জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেবে ইসি। শপথবাক্য কে পাঠ করাবেন- তাও চূড়ান্ত করবে মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ খুরশীদ আলম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর শপথের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে নির্বাচনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে গেজেট প্রকাশের আগেই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা। ওই কর্মবর্তা রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নিয়ে যুগ্ম জেলা জজ ও জেলা জজকে নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী বিরোধ নিয়ে এখানে আবেদন করতে হবে।" ইসি সচিবালয় কর্মকর্তারা জানান, চার সিটি কর্পোরেশন এবং নয় পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী মেয়রদের মধ্যে নয় জনের বিরুদ্ধে মোট ২৮টি মামলা বিচারাধীন। এর বেশিরভাগই দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মামলা। নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নির্বাচিত এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দুই জনের বিষয়ে হলফনামার বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেব।" নির্বাচিত হলেও অসত্য তথ্য দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ইতোমধ্যে ইসি জানিয়েছে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন